| | | | | |

আমাদের নবজীবনের গান - Amader Nobojiboner Gaan

by জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র | Jyotirindra Moitra
আমাদের নবজীবনের গান - Amader Nobojiboner Gaan

… পোস্ট গ্রাজুয়েট ক্লাসে ১৯৩২ সালে সহ বেঞ্চার (co-bencher) রূপে বিষ্ণু দের সঙ্গে আলাপ হলো এবং ঘনিষ্ঠতা। ফলে টি.এস. এলিয়ট, আর অনিবার্যভাবেই 'পরিচয়' এর আড্ডা। অর্থাৎ মার্কসবাদ, মুক্তমতি, নতুন বিশ্ব ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষ পরিণয়।

 

    মনে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে অধ্যাপক কে লুকিয়ে বিষ্ণু রায় আর আমার সেই অনর্গল ছড়া বা লিমেরিক রচনা। এতদিনের ধোঁয়াটে মিস্টিক কাব্য জগৎ থেকে বেরিয়ে আসতে বিষ্ণু আমাকে হাত ধরে সাহায্য করেছিল। আর মার্কসবাদ আমাকে দিয়েছিল উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায়ের স্পষ্টতা। দিয়েছিল বিশ্ববীক্ষা।

         

    বিষ্ণুর সঙ্গে নতুন আলাপের সূত্রে 'পরিচয়' -এর আড্ডার কথা। বলছিলাম মার্কসবাদ, মুক্তমতি, নতুন বিশ্ব ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমার মানুষ পরিণয় এর বৃত্তান্ত।

 

    তারপর ১৯৩৫-ই হবে স্পেন আক্রান্ত হল। ফ্রাঙ্কোর ফ্যালাঞ্জিস্ট বাহিনী বিশ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন স্পেনে শুরু করলো নাটকীয় ফ্যাসিস্ট অভিযান। মানব সভ্যতার ইতিহাসে আরম্ভ হলো বর্বরতার এক নতুন অধ্যায় এবং তার পাশাপাশি মনুষ্যত্বের মহিমাময় মৃত্যুঞ্জয় উদ্বোধন।

 

    'পরিচয়'-এর আড্ডায় হিরেন বাবু,সুশোভন বাবু, নীরেন্দ্রনাথ রায়, সুরেন গোস্বামী, ড. ভূপেন দত্ত প্রমুখের সঙ্গে এই আলোচনা হত। রল্যাঁ এবং বারবুসের আবেদন সেদিন মন্ত্রের মতো কাজ দিয়েছিল।

 

    রালফ ফকস, ক্রিস্টোফার কডওয়েল-এর লেখার নিয়ে আমরা আগে থেকেই কথাবার্তা বলতুম। স্পেনের সাহায্যে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ব্রিগেড প্রসঙ্গে তাদের নাম এখন ঘনঘন উচ্চারিত হতে লাগল। স্টিফেন,স্পেন্ডার,অডেন প্রমুখ বিখ্যাত কবিরাও আন্তর্জাতিক বাহিনীতে নাম লিখিয়েছেন।

 

   প্রশ্ন জাগল: সভ্যতার সংকট কালে মানুষের দুঃখ বেদনা সংগ্রামের পাশে এই শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীরা দাঁড়িয়েছেন। আমরাও কি পারি না?

 

    আমাদের কয়েকটা মার্কসিস্ট স্টাডি সার্কল ছিল। কালীঘাট তরুণ সংঘ তার অন্যতম। স্টাডি সার্কেল মার্ক্স এঙ্গেলস লেলিন এবং গোর্কির রচনা পাঠ ও গাইতাম। " স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় রে –" গানটিতে আমি সুর দিয়েছিলাম।

 

    কিন্তু ফেরা যাক বিনয়ের সঙ্গে প্রথম আলাপ এর পরবর্তী দিনগুলিতে। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের নাম এই সময় খুব শুনতাম। বিনয়ের মুখেই বেশি শুনতাম। সাক্ষাৎ আলাপের আগেই হে মাঙ্গের অনেক কটা গান আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। তার একটা ওই "ওরে ও চাষী ভাই তোমার কাস্তেটারে জোরে দিও শাণ–"।

 

    একদিন বিনয় বলল – আমাদের আড্ডা আছে বৌবাজারে আর ছেচল্লিশ ধর্মতলায়। চলো না।

 

     সেই যাতায়াত শুরু।ছেচল্লিশ নম্বরের চার তলায় তখন ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের জমজমাট ব্যাপার। গিয়ে দেখলাম এক মহাসঙ্গমে গিয়ে হাজির হয়েছে।

 

    যেমন বিষ্ণু আমাকে হাত ধরে 'পরিচয়'-এর আড্ডায় নিয়ে গিয়েছিল, তেমনই বিনয় আমাকে হাত ধরে টেনে তুলল ৪৬ নম্বর ধর্ম তলায়।নদী কখনও সোজা কখনও এঁকেবেঁকে ছুটছিল, এইবার সাগরে পড়লে।

 

    এইখানে একটু সন-তারিখগুলো ঝালিয়ে নি। যদিও এ ব্যাপারে আমার বিস্তৃতি পরায়নতা প্রায় তুলনাবিহীন।

 

    ১৯৩৬ সালে লখনউ-এ 'সারা ভারত প্রগতি লেখক সংঘ'-এর জন্ম। ১৯৩৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় তার দ্বিতীয় সম্মেলন। বাংলাদেশের প্রগতি লেখক সংঘের একটা শাখা ছিল, তবে তা যে খুব সংগঠিত অবস্থায় ছিল– এমন বলা যায় না।

 

    ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেধে গেল।একচল্লিশ সালে বাইশে জুন হিটলার সোভিয়েত আক্রমণ করল তার কিছু পরেই বাংলাদেশ জন্ম নিল 'সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি'।

 

    তরুণ এবং অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কথা সাহিত্যিক ও নিবেদিতপ্রাণ কমিউনিস্ট সোমেন চন্দ ১৯৪২ সালের আটই মার্চ ঢাকায় একটি মিছিলে বর্বর ফ্যাসিস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত হন। এই ঘটনার সাহিত্যিক সমাজকে উদ্বেল করে তোলে। আটাশে মার্চ কলকাতায় ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরী ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জন্ম নেয় ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘ। এই সংগঠন বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে অচিরকালে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে।

 

    ১৯৪৩ শেষাশেষি বোম্বাইতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেস ও তার প্রকাশ্য সম্মেলন হয়েছিল। বোম্বাইতে তখন সমগ্র ভারতের প্রগতি লেখক ও শিল্পীদের সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পারফর্মিং আর্টিস্টদের জন্য 'ভারতীয় গণনাট্য সংঘ' গড়ার সিদ্ধান্ত হল।

 

    বাংলাদেশের অবশ্য গণনাট্য আন্দোলন ইতিমধ্যেই দানা বেঁধেছে। এখন ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের নাট্য বিভাগরূপে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের বাংলা শাখা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করলো।

 

    পরে, ১৯৪৫ সালে, কলকাতা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ পুনর্জীবিত হয়। কিন্তু এখানে শিল্পী বলতে বোঝায় চিত্রী ও ভাস্করদের।

 

    নাচ-গান-নাটকের শিল্পীরা ততদিনে গণনাট্য সংঘের রীতিমতো সংগঠিত হয়ে গেছে।তবে, প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট ছিল।

 

    ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই 'নবজীবনের গান' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কথা ও সুর আমার, স্বরলিপি জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ মহাশয়ের। বইটি 'সুধী প্রধান কর্তৃক ভারতীয় গণনাট্য সংঘের পক্ষে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ হইতে প্রকাশিত'।

 

     পরে পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে, পশ্চিমবঙ্গে প্রগতি লেখকদের শেষ সম্মেলনে সংগঠনের নাম অবশ্য 'প্রগতি লেখক সংঘ'ই হয়।

 

    কিন্তু আমি বলছিলাম সেই একচল্লিশ-বিয়াল্লিশ সালের কথা। ছেচল্লিশ নম্বরে তখন সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি এবং ফ্যাসিস্ট বিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের অফিস। পরে,১৯৪৪ সালে হাত বদল এরপর 'পরিচয়' আপিসও বেশ কিছুদিনের জন্য এখানে উঠে আসে। মানে,ছেচল্লিশ নম্বর তখন প্রকৃত অর্থেই কমিটমেন্টে বিশ্বাসী শিল্প-সাহিত্যের মহাযজ্ঞ ও কর্মশালা।

 

    গানে ছিল বিনয়, হেমাঙ্গ, জর্জ (দেবব্রত বিশ্বাস), হেমন্ত, সুজাতা- সুপ্রিয়া– সুচিত্রার দুই দিদি। তৃপ্তি আর সাধনা ও তখন গান গাইতো। মাঝে মাঝে শচীনদেব বর্মন এবং জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ আসতে।

 

    বিনয়ের চাষী গেরিলার গান, লফিরাইয়া দে দে মোদের কাইয়ুর বন্ধুদেরে' হেমাঙ্গ 'দেশে উঠল দারুন হাহাকার সোনার ভারত হইলোরে ছারখার' ধরনের বহু গান; সুভাষের 'বজ্রকন্ঠে তোল আওয়াজ'; কিছু বা আমার গান তখন ছেচল্লিশ নম্বরকে মাতিয়ে রাখতো।

 

    এই সুযোগে হীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথা একটু বলে নি। আমাদের কাজকর্মে আকৃষ্ট হয়ে হীরেন্দ্রনাথ মাঝে মাঝে কলকাতায় আসতেন,ছেচল্লিশের আড্ডায় বসে সকলকে গান শেখাতেন।

" সূরিয় অস্ত্ হো গয়া

      গগন মস্ত্ হো গয়া–

অব নভমে পতাকা

      নাচত হ্যায় নাচত হ্যায়–"

এসব গান তাঁরই কাছে শিখেছে।

 

    জর্জ আর হেমন্তের দৌলতে একসময় মানুষ তো "সূরিয়া অস্ত্ হো গায়া" গানটি পথে-ঘাটে গেয়ে বেড়াতো।

 

    লা মার্সাইয়ের সুরে হরীনদার গান:

'অব্ কমর বাঁধ,তৈয়ার হো লক্ষ কোটি ভাইয়োঁ –'

সেদিন দিকে দিকে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।

আর ছিল ইন্টারন্যাশনাল। মোহিত ব্যানার্জীর বাংলা তরজমা:

'জাগো জাগো জাগো সর্বহারা'।

হরিনদার হিন্দি অনুবাদ:

' উঠো জাগো ভুখে বন্দী অব্ খেঁচো লাল তলওয়ার'।

উর্দু তরজমা:

' কেয়া খাক হ্যায় তেরি জেন্দেগানি উঠ্ এর গরিব বেনোয়া' –

 

    হরিনদার কাছে শেখা বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় আন্তর্জাতিক সংগীতের এই অনুবাদগুলি আমরা গাইতাম সভায়,স্ট্রিট কর্নারে এমনকি দলবেঁধে উঠলে ট্রামে বাসে ট্রেনে। গাইতাম ছেচল্লিশ নম্বরে।…

 

    জাপান কোহিমা আক্রমণ করলে আমি একটা কাব্য ও গান লিখি যার ধুয়াটা ছিল:

' আর দেবনা আর দেবোনা সোনার মনিপুর'।

 

    ওই সময়ই মিনার্ভা স্টেজে একটা অনুষ্ঠান হয়েছিল তখন হেমাঙ্গ আমার অন্তরঙ্গদের একজন। মনে পড়ে তার

' কি শুনি কি শুনি সই লো

             কি শুনি কি শুনি

  হরিতে রমনী মোহন

              আইলো জাপানি সই

               আইলো জাপানি'...

 

    গানটি ধামাইলের সুরে সাধনা গাইছে আর হেমাঙ্গ আমি রোগা ডিগডিগে নির্মলেন্দু চৌধুরী এবং ভূপতি কি সুরপতি খালি গায়ে কোমরে গামছা বেঁধে নেচে নেচে সাধনার সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে।

 

    নাচের কথা যখন উঠলই তখন নাটকের প্রসঙ্গ টা সেরে রাখি।ছেচল্লিশ নম্বরের নাটক মানেই শম্ভু মিত্র– পাবলিক স্টেজ থেকে সে প্রগতি শিবিরে এসেছিল, আর বিজন ভট্টাচার্য– যেন মায়ের পেট থেকে পড়েই ছেচল্লিশ নম্বরে পার্ট বলছে। আর ছিলেন মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য – আমাদের মহর্ষি। সুজাতা, তৃপ্তি তো ছিলই। এই সূত্রে অত্যুৎসাহী মনে পড়ছে এবং জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের অনুজ চারু প্রকাশের কথা–একসময় ওদের ডিকসন লেনের বাড়িতে ছিল আমাদের জমাটি আড্ডা। তাছাড়া, ছেচল্লিশ নম্বরের চারু প্রকাশের মতোই 'নবান্ন' কিছু পরের ঘটনা( অক্টোবর,১৯৪৪)। বিজন এর 'আগুন' আর 'জবানবন্দি' তার আগেই হয়ে গেছে।

 

    থিয়েটারের লোক নই। কিন্তু শম্ভু আর বিজনের সঙ্গে নাড়িছেঁড়া বন্ধুত্ব হতে বেশি সময় লাগেনি। আমাদের তিনজনকেই বলা হত ট্রায়ো।

 

    তবে আর সাহিত্যের কথাটাই বাবার থাকে কেন? কাকে ছেড়ে কার কথা বলবো? কিছু আগে পরে হলেও সেদিন সাহিত্য জগতের মহারথী থেকে পদাতিক পর্যন্ত অনেকেরই আড্ডা ছিল ওই ছেচল্লিশ নম্বর। হিরেনবাবু, ড. ভূপেন দত্ত, রাধারমন মিত্র মশাই, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর, গোপাল হালদার প্রমূখ মান্যজনেরা তো ছিলেনই। আরও ছিলেন অরুণ মিত্র, স্বর্ণকমল ভট্টাচার্য, সরোজ দত্ত, সুশীল জানা, নবেন্দু ঘোষ, অনিল কাঞ্জিলাল, রবীন্দ্র মজুমদার, সুনীল কুমার (পল্টু) চট্টোপাধ্যায়, চিন্মোহন সেহানবীশ এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়।

 

    কিছুদিন পরে কিশোর বাহিনীর দলপতি সুকান্তও আসতে শুরু করে। মনে আরও কত নামেই না ভিড় করে আসছে।

 

    বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর অনেকে আসতেন –দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, ইন্দ্র দুগার, রথীন মৈত্র, গোপাল ঘোষ, শুভ ঠাকুর, নীরদ মজুমদার। তাছাড়া চিত্তপ্রসাদ, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ তো ছিলেনই।

 

    বুঝতে পারছি ছেচল্লিশের কথা বলতে অনেকখানি জায়গা নিয়ে ফেলেছি তবু তো প্রায় কিছু বলা হলো না।

 

    এই মহাতীর্থ ছাড়াও আমাদের কিন্তু আরেকটি আড্ডা ছিল–পার্টির সঙ্গে সে আড্ডার সম্পর্ক ছিল প্রত্যক্ষতর। বৌবাজারে মোক্তারশিপ কলেজের দোতলায় একটা ঘরে আমাদের গান নাটকের নিয়মিত রিহার্সাল হয়েছে।

 

*           *                 *  

      

     আমার গানের কতগুলো সৃষ্টি ভূমি ছিল।           প্রথমেই মনে পড়ে সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের কথা। আমাদের গ্রেট সত্যেনদা। তার বাড়ির তেতলা। সেখানে তখন অরুণ মিত্রও থাকতো। হয়তো বাড়ির মত ঢুকলুম। তৃপ্তি (তখনও ভাদুড়ী) হারমোনিয়ামটা এনে দিল। তারপর সুর… কথা… সুর–।

 

      আর ছিল দেবব্রত বিশ্বাসের ঘরের একতলা। তার হারমোনিয়াম এবং তার সাহচর্য 'নবজীবনের গান' কে রূপ দিতে অনেক সাহায্য করেছে।জর্জকে  সহযোগী হিসেবে পেয়ে নিজেকে বহু সময়ই ধন্য মনে হয়েছে।

 

    তাছাড়া ছেচল্লিশ নম্বরকে প্রায় ল্যাবরটরির মত ব্যবহার করা হতো অনেক গান রচনার, নৃত্য-পরিকল্পনার, নাটক রিহার্সালের, সাহিত্য পাঠের সাক্ষী ওই ঘরটা।

 

*                    *                     *

 

    বেয়াল্লিশ সালে পার্টি মেম্বারশিপ পেলুম। তখনকার সেই কমিউনিস্ট পার্টি। আমার মনে মনে সংকোচের অবধি ছিল না– সভ্যপদ  পাওয়ার যোগ্যতা কি আমার আছে? পার্টি মনে করল আছে। দু-তিন মাস পরেই হোল-টাইমার হলাম। মাসে কুড়ি টাকা ওয়েজ পেতাম।

 

    আমাদের সাংস্কৃতিক সেলে তখন ষোল-সতেরো জন সদস্য। অনিল কাঞ্জিলাল, চিন্মোহন সেহানবীশ, সুধী প্রধান, স্বর্ণকমল ভট্টাচার্য, অরুণ মিত্র, রবীন্দ্র মজুমদার, শম্ভু মিত্র, শিল্পী মণি রায়, অনিল সিংহ প্রমুখ কি সব বিশিষ্ট নাম!

 

    তারপর এল ১৯৪৩ সাল, বাংলায় ১৩৫০। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে, বিশেষ করে শহর কলকাতায়, মহামন্বন্তরের করাল ছায়া চারিদিক অন্ধকার করে দিল। আর ঘরে থাকা যাচ্ছিল না। জমাট সাহিত্যিক আড্ডা ও রিহার্সাল ছেড়ে আমরা সবাই রাস্তায় নেমে পড়লাম। চরম বিপর্যয় ও বিভৎস মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ালাম।

 

    রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতাম। চৌরঙ্গি, কালীঘাট, লেক মার্কেটের মোড়, বালিগঞ্জ, ওদিকে শিয়ালদহ, শ্যামবাজারের মোড়। সর্বত্র এক দৃশ্য– শত সহস্র কঙ্কাল 'ফ্যান দাও ফ্যান দাও'  বলে চিৎকার করছে। পেটের জ্বালায় গ্রাম উৎখাত করে শহরে এসে অন্নদাতা কৃষক ও জগদ্ধাত্রী কৃষাণী দুমুঠো অন্ন ভিক্ষা চাইতেও সাহস পায়না।– মনুষ্যত্বের অবমাননা! গোরু ছাগলের খাদ্য নিয়ে মানুষের মানুষের কাড়াকাড়ি। ডাস্টবিনের পচা এঁটোকাটা নিয়ে কুকুরে মানুষে মারামারি। আর দেখলাম মৃত্যু– অমৃতের সন্তানরা মরছে যেন পোকামাকড়।

 

    একদিন দেখলাম মা মরে পড়ে আছে। তার স্তন ধরে অবোধ ক্ষুধার্ত শিশু টানাটানি করছে আর হেঁচকি তুলে কাঁদছে।

 

    এর প্রচন্ড অভিঘাত আমার গোটা অস্তিত্বকে কাঁপিয়ে দিল। আমি চিৎকার করে বলে উঠলাম– না, না, না।

 

     অস্থির পায়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হেটে চলেছি আর মনে মনে বলছি –we won't allow people to die, মানুষের তৈরি এই দুর্ভিক্ষ মানব না, প্রতিরোধ করব, উর্ত্তীণ হব। হাত মুঠো করে আবার বলে উঠলাম– না, না, না– ।

 

    এই হলো শুরু। মনে নেই কার বাড়িতে গিয়ে হারমনিয়াম নিয়ে বসেছিলাম, কার কাগজ ধার করে, কার কলমে লিখেছিলাম। সুর আর কথা মনের বেদনা ও যন্ত্রণার রুদ্ধ উৎসমুখ থেকে ঝরনার মতো বেরিয়ে এল। শুরু হলো 'নবজীবনের গান':

" না না না।

 মানব না মানব না।

কোটি মৃত্যুরে কিনে নেব প্রাণপণে,

ভয়ের রাজ্যে থাকবো না"...

 

     এই প্রতিবাদ আমাকে নিয়ে এলো মানুষের জীবন সংঘর্ষের পাশাপাশি। হয়ে গেলাম তাদের সহযাত্রী– সংগ্রামী কবি সুরকার গায়ক।

 

     আমরা 'কুইট ইন্ডিয়া' আন্দোলনে বিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু একদিন রাস্তায় পুলিশের গুলিতে একজনকে মরতে দেখলাম। ভুলভাবে হলেও লোকটি তো ভারতের স্বাধীনতাই চেয়েছিল। ওরা তাকে হত্যা করল।

 

    এই স্মৃতি আমাকে সর্বদা তাড়া করত। তার সঙ্গে যুক্ত হলো দুর্ভিক্ষের মৃত্যু। রোজই রাস্তায় মরণ দেখতাম। একদিন একটি বৃদ্ধকে দেখলাম খাদ্য চাইতে চাইতে মুখ থুবড়ে পড়ল, আর কথা নেই। কিছুক্ষণ বাদে পুলিশের লোক এসে লাঠি দিয়ে ঠেলে তাকে রাস্তার ধারে সরিয়ে দিল।

"পথে পথে শঙ্কা

 মোড়ে মোড়ে বাজে মৃত্যুর জয়-ডঙ্কা।

ধন গৌরবে মাখা যুদ্ধের অঙ্গ

আমরা ত' সৈনিক

বুভুক্ষ দৈনিক

আমরা কি দেব রণে ভঙ্গ।"...

 

    মনের বেদনা ও যন্ত্রণার রুদ্ধ উৎসমুখ থেকে ঝরনার মতো বেরিয়ে আসতে লাগল একটার পর একটা গান – 'নবজীবনের গান'।

 

    এই প্রাণান্তকর জীবনযন্ত্রণাই শেষ কথা নয়, মৃত্যুকে পেরিয়ে বাঁচবই, নবজীবনের আলো দেখবই– বিশ্বাস আমাদের উদ্বুদ্ধ করত। এই ছিল 'নবজীবনের গান'-এর মূল সুর।

 

    রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে গান মনে আসত। এক-একদিন দুটো তিনটে গানও আসত। যার বাড়ি হোক গিয়ে শোনাতন, হারমনিয়াম বাজিয়ে ঠিকমতো তুলে নিতাম। আবার মাঝে মাঝে দীর্ঘ ছেদ পরত। প্রকৃতপক্ষে গোটা ১৩৫০ সাল জুড়েই 'নবজীবনের গান' সৃষ্টি পালা চলেছিল। একটা কথা এই প্রসঙ্গে বলে রাখি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যায় নানাজন 'নবজীবনের গান' গেয়েছেন। আমরা তো ছিলামই– হেমাঙ্গ, জর্জ, সুচিত্রা, হেমন্ত প্রমুখও নানা সময়ে এ গান গেয়েছেন। 'নবজীবনের গান' গ্রন্থে প্রকাশকের ভূমিকায় বলা হয়েছিল :

"... এই প্রসঙ্গে শ্রীযুক্ত (জ্ঞানপ্রকাশ) ঘোষকে অশেষ ধন্যবাদ গণনাট্য সংঘের পক্ষ থেকে জানাই। তাঁর মতো গুণীব্যক্তি যে এরকম ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে একাজ অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করেছেন তাতে আমাদের আন্দোলনের প্রতি তাঁর অপরিসীম স্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। তা ছাড়া শ্রীযুক্ত পঙ্কজ কুমার মল্লিক, সন্তোষ সেনগুপ্ত, হেমন্ত মুখার্জী ও দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে যথেষ্ট সাহায্য পেয়েছি।"

 

    'মধুবংশীর গলি'-ও এই সময়ই লেখা।

 

    ওই কবিতা নিয়ে পাগলামিও হয়েছে কম নয়।সদ্য 'মধুবংশীর গলি'র পান্ডুলিপি আমার অথবা শম্ভুর পকেটে পকেটে ঘুরত।অতিব্যবহারে  জীর্ণ তার অবস্থা। রাত্তিরে খাওয়ার পর শম্ভু প্রায়ই আমার বাড়ি আসত। এখন যেখানে সার্দান অ্যাভিনিউ– সেদিনের অন্ধকার, প্রায় ভুতুরে, সেই অঞ্চলে পায়চারি করতে করতে গলা ছেড়ে আমরা 'মধুবংশীর গলি' আবৃত্তি চরতাম।সঙ্গে থাকত রবীন মজুমদার।

 

    শম্ভুর অসামান্য কণ্ঠস্বর ও অনবদ্য আবৃত্তির বর্ণনা কিভাবে দেব?

"তোমারই প্রেরণা পেয়েছি

বারে বারে আনন্দে গেয়েছি

নিরঙ্কুশ এ জীবনের কলনাদে

ভরেছে অম্বর।

হে পঁচিশ নম্বর

মধুবংশীর গলি,

তোমাকেই আমি বলি।…"

 

    নির্জন সেই লেকের ধারে শম্ভুর আবৃত্তি যেন প্রত্যয়ের দীপ জ্বেলে দিত যখন সে বলত :

" স্বপ্ন জেগে উঠছে, উঠছে

 স্টালিনগ্রাদে, মস্কোভায়,

 টিউনিসিয়ায়, মহাচীন ।

মহা আশ্বাসের প্রবল নিশ্বাসে

দুর্দমনীয় ঝড় উঠেছে সৃষ্টির ঈশান কোণে।"

 

    শুধু ছেচল্লিশ নম্বরে নয়, শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও না, হাটে-মাঠে সহস্র রাজনৈতিক সভায় শম্ভু 'মধুবংশীর গলি' আবৃত্তি করত। আমার কবিতা যত তুচ্ছই হোক শম্ভুর আবৃত্তি সেই এক নতুন স্কুলের পত্তন করত। তার প্রভাব পড়ল নাট্যাভিনয়েও।

 

    কিন্তু বলছিলাম কলকাতার 'পথে পথে মৃত্যুর শঙ্কা'-র কথা।

 

    ভারতীয় ভাষায় গণনাটকের প্রথম সার্থক স্রষ্টা বিজনের ঐতিহাসিক 'নবান্ন' নাটকও মর্মান্তিক অভিজ্ঞতারই ফসল। ওই দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে তাদের মুখের কথা সে তার নাটকে বসিয়েছে। ফটোগ্রাফারকে বলা 'হাড়ের খাঁচার ব্যবসা করো তোমরা?' এমনই একটি মর্মভেদী সংলাপ।

 

    ওই সময়ই ঘুরে ঘুরে অজস্র অনবদ্য ফটো তুলেছিল সুনীল জানা। আর চিত্তপ্রসাদ, জয়নাল আবেদিন এঁকেছিল অবিস্মরণীয় কিছু ছবি।

 

     আমরা শিল্প-সাহিত্যিকেরা সেদিন সৃষ্টির প্রেরণা ও প্রয়োজনে পথে নেমেছিলাম। তাতে ফল ভালোই হয়েছিল। গণনাট্য সংঘেরও প্রকৃত স্ফূরণ এই ১৩৫০ সালে।

 

     শুধু সৃষ্টি নয়, সেবাও করেছি যাকে বলে হাতে কলমে কাজ।

 

     কালীঘাট ট্রামডিপোর কাছে মৃতদেহ পড়ে আছে। লোকাল কমিটির সেক্রেটারি কুমুদ বিশ্বাস জানতে পেরেই খবর পাঠালেন কর্নেল শিবসেঙ্কো ( শিব শংকর মিত্র)- কে। মৃতদেহ অপসারণে আমরা হাত লাগালাম।

 

    তাছাড়া লঙ্গরখানা পরিচালনা এবং পিপলস রিলিফ কমিটি (পি আর সি)-র কাজে মদত দেওয়া তো ছিলই। এসবই আমাদের পার্টি-ডিউটি বলে গণ্য করা হত।

 

    আজকে শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হবে, কিন্তু ওরই মধ্যে আমরা– বিনয়, জর্জ, আমি বেশি, ভূপতি-সুরপতিও–পার্টির নির্দেশে ট্রামওয়ে ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের আহবানে জায়গায় জায়গায় গিয়ে ট্রাম শ্রমিকদের গান শেখাতুম। সদস্যদের প্রতি সেদিন পার্টির নির্দেশ ছিল: 'তোমাকে অল-রাউন্ডার হতে হবে– নাচ-গান-বাজনা-আবৃত্তি অভিনয়– সব কিছু কিছু শিখে রাখা চাই, যাতে কোনো একজনের অভাবে কাজ না ঠেকে যায়, এবং সমগ্রতার সাধক হতে হবে। অর্থাৎ কিনা পুরো মানুষ এবং পুরো শিল্পী। এই গান শেখাতে হাওড়া ময়দানে রেল শ্রমিক এবং চাপ দানিতে চটকল মজুরদের কাছে কতবার গিয়েছি।

 

    বর্ধমানের কৃষক সম্মেলনে কোনও রকমে স্টেজ খাড়া করে চটের ব্যাকড্রপ লাগিয়ে হ্যাজাক জ্বেলে দশ হাজার কৃষককে 'নবান্ন' দেখানো হয়।

 

    ১৯৪৩- এর গোড়ায় বাছাই করে দল তৈরি হল– 'ভয়েস অব বেঙ্গল'। হরীনদা ও বিনয় তার লিডার।

 

     রাজশাহি থেকে প্রীতি সরকার (এখন বন্দ্যোপাধ্যায়)- কে আনা হল।  তার অসম্ভব মিষ্টি গলার সুখ্যাতি আগে শুনেছি।

 

    তৃপ্তি, শম্ভু, ঢোলবাদক ট্রাম্প শ্রমিক দশরথ লাল, প্রেম ধাওয়ান, নেমীচাঁদ ও রেখা জৈন প্রমুখকে নিয়ে এই দল বেরোলো ভারত ভ্রমণে।

 

    এই দল কলকাতা, পাটনা, এলাহাবাদ, লখনউ, দিল্লি, লাহোর, বোম্বে ইত্যাদি ঘুরে গান গেয়ে এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা তুলেছিল। দুর্ভিক্ষ পীড়িতদের সেবার জন্য সে টাকা পি আর সি-কে দেওয়া হয়।

 

    এরপরই জন্ম নিল ভারতীয় গণনাট্য-র সেন্ট্রাল ট্রুপ। তখন বোম্বেতে ছিল পার্টি হেড-কোয়ার্টার। রেড ফ্লাগ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে আই পি টি এ-র সেন্ট্রাল ট্রুপের আবির্ভাব ঘটল।

 

    আলমোড়া সেন্টার ভেঙে যেতে উদয়শঙ্কর এইসময় বোম্বে চলে আসেন। রেড ফ্ল্যাগ হলের কর্মকাণ্ডের কথা তাঁর কানে পৌছায়। চৌপাটে তিনি একদিন আই পি টি এ-র শিল্পীদের ডেকে শ্যাডো প্লে করে 'রামলীলা'-র নির্বাচিত অংশ দেখান। তারপর বিনয় ও প্রীতির গান শুনে অত্যন্ত প্রীত হন। বলেন– 'আমার বয়েস হয়ে গেছে, আর নতুন ভাবে করা সম্ভব নয়। রবিশঙ্কর, শান্তি বর্ধন, অবনী দাশগুপ্ত, শচীনশঙ্কর– এঁদের দিচ্ছি এঁদের তোমরা তোমাদের দলে নাও।'

 

     আন্ধেরিতে একটা প্রকাণ্ড বাগানবাড়ি পাওয়া গেল। রেড ব্ল্যাগ হোলের সেই বিপুল কর্মকাণ্ড আন্ধেরিতে বিপুলতর উৎসাহে চলতে লাগল। পার্টির পক্ষ থেকে লিয়াঁজর দায়িত্ব ছিল পার্বতী কৃষ্ণানের ওপর।

 

    শিল্পীরা নাকি অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক হয়। আন্ধেরিতে সবাইকে কমিউনের জীবনযাপন করতে হত। অথচ কোন সংকীর্ণতাও ছিল না। পার্টির দ্বারা বাছা সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন বন্ধু ও সহযাত্রী রবিশঙ্কর, শান্তি বর্ধন প্রমুখ। এতে উভয়তই ভালো হয়েছিল।

 

    খাদ্য ছিল নিতান্ত সাধারণ। পালা করে ঘর ঝাঁট দিতে হত। তাছাড়া নিজের কাপড় নিজে কাচা বা নিজের থালা নিজে মাজার রেওয়াজ তো ছিলই।

 

    রাজনৈতিক শিক্ষার সুব্যবস্থা ছিল। রাস্তায় নেমে 'পিপলস ওয়ার' বিক্রি করতে হত।  তাছাড়া মিটিং-মিছিলে যেতে হতই। প্রত্যেকের রাজনৈতিক জীবনের প্রতি ব্যক্তিগত মনোযোগ দেওয়া হত।

 

    আর ছিল সংগীত নৃত্য নাট্য শিক্ষা। সে শিক্ষার ব্যাপকতা গভীরতা ও বৈচিত্র্যের কোনও তুলনা ছিল না। ফলে রোজ ভোরে তানপুরা ঘাড়ে গলা সাধত বিনয় রায়, প্রীতি; সেতার বাজাত রবিশঙ্কর।

 

    আমি মাঝে মাঝে কলকাতা থেকে যেতাম 'নবজীবনের গান' শেখাতে। যাকে বলে 'ভিজিটিং প্রফেসর'। শান্তি বর্ধন 'স্পিরিট অফ ইন্ডিয়া' নামে একটা চমৎকার ব্যালে তৈরি করেছিল'নবজীবনের গান'-এর খানিকটা এবং গম্ভীরা ধরনের 'গাজন' তার অংশ ছিল। গাজনে শিব সাজত শচীনশঙ্কর, পার্বতী রেখা জৈন। এই প্রসঙ্গে রেড্ডির কথাও মনে পড়ছে। প্রকাণ্ড চেহারা– যাকে বলে শালপ্রাংশু মহাভুজ। Deep base গাইয়ে। তার স্বর যেন নাভিদেশ থেকে উত্থিত হত। রেড্ডি সম্ভবত তেলেঙ্গানার লড়াইয়ে নিহত হয়।

 

     হ্যাঁ, গণনাট্য সংঘের শিল্পীরা সেদিন জীবন দিতেও প্রস্তুত ছিল।

 

    আজকের নৃত্য-গীত নাটক ও চলচ্চিত্র, তথা আধুনিক ভারতীয় সংস্কৃতির ওপর গণনাট্য সংঘের গভীর আর সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে। অন্যের কথা দূরে থাক, আমরা, নিজেরাও এ সম্পর্কে যথোচিত সচেতন নই।             

                                                 [ সংক্ষিপ্ত]

 

 

 

[ কমিউনিস্ট পার্টি (দক্ষিণ) কর্তৃক  প্রকাশিত, অর্ধশতক পূর্তি স্মারকপত্র থেকে]

Comments

MXFELDSLMM12820222154